শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র! পৌরসভার ময়লা পরিষ্কার করে সংসার চালান বিধবা তাহমিনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন সম্পন্ন ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নারীর অংশ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি আসামির
বরিশালে মানবাধিকা বাণিজ্য সংগঠনগুলো উধাও! অসহায়দের পাশে ঘুরছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন

বরিশালে মানবাধিকা বাণিজ্য সংগঠনগুলো উধাও! অসহায়দের পাশে ঘুরছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন

আনোয়ার হোসেন ॥ বরিশালে পাড়া-মহল্লা অলিগলিতে ছিলো মানবাধিকার সংগঠনের ছড়াছড়ি। তবে সংকটময় সময়ে ভূঁইফোড় এসব সংগঠনগুলো বরিশাল থেকে উধাও।

দেশে মহামারি সময়ে তারা অসহায় মানুষদের পাশে নেই। সাইনবোর্ড ও প্যাডসর্বস্ব ভূঁইফোড় এসব সংগঠনের কর্মকান্ডে ক্ষুন্ন হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ভাবমূর্তি। ওই সকল কথিত ভূঁইফোড় মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে মিলিয়ে এমনভাবে নাম ব্যবহার করছে, যাতে বিভ্রান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ।

ওই সকল মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের বাণিজ্য হাচিল করার জন্য সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা মানবাধিকার সংগঠনগুলো থানা ও আদালতে তদবিরের মাধ্যেমে অপরাধী ছাড়ানোর মতো কাজেও লিপ্ত। তারা বরিশালে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা অলিগলিতে বড় বড় সাইনবোর্ড টানিয়ে নির্যাতিতদের আইনি সহায়তা দেওয়ার নামে সাধারন ভুক্তভোগী মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে।

এমনকি কোথাও কোনো অপ্রীতিকার ঘটনা ঘটলে দ্রুত বাদী-বিবাদীর কাছে পৌছে কথিত এসব সংগনের তদন্ত কর্মকর্তারা। ওই সকল ভুক্তভোগী লোকদের সমঝোতা করে দেওয়ার নাম করে উভয় পক্ষর কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।

বরিশাল জেলা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে মানবাধিকার সংগঠনের অফিস। আজ ভূঁইফোড় মানবাধিকার সংগঠনগুলো মানুষের পাশে নেই। বিশ্বে মহামারি করোনা সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দেশের বিভিন্ন বিভাগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বরিশালে প্রায় ৭০ দিন ধরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সংগঠন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে কমিশনের সিনিয়র গর্ভনর মাহামুদুল হক খান মামুন জানান, বরিশালে আমাদের সংগঠন নিজেদের অর্থয়নে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ, খাদ্যসামগ্রী, শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য, নগত অর্থসহ প্রায় ১৭০০শ লোকের মাঝে বিতরণের কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

এবং এই বিতরণ বরিশালে অব্যাহিত থাকবে। বরিশালের আঞ্চলিক সম্মনয়কারী ও জেলা সাধারন সম্পাদক কাজী আল মামুন বলেন, আমাদের সংগঠন নাম বিক্রি করে না তারা কাজে বিশ্বাসি। আমাদের সংগঠন অরাজনৈতিক ও অলাভজন আমরা কোনো অর্থের বিনিময়ে কাজ করি না। আমরা সব সময় অসহায় লোকদের সহযোগীতা করেছি আর এটা আমরা করবো।

তিনি আরো বলেন, বরিশালে মানবাধিকার সংগঠন নামে অনেক সংগঠনের নাম সুনি কিন্তু তাদের কোনো কর্মর্কান্ড চৌখে পরেনা। এই সংকট ময় সময়ে তাদের কোনো অসহায় মানুষের পাশে দেখা যায়নি। এতো টুক শহর সবাই মিলে মানুষের পাশে দাড়ালে অসহায় লোকদের উপকার হতো।

তিনি আরো বলেন, আমার কাছে অভিযোগ আসছে বরিশালে ১০ থেকে ১৫ টি মানবাধিকার সংগঠন আছে তারা না কি বিশাল অফিস নিয়ে সালিশ মিমাংশা করে। তাহলে তারা আজ কোথায় ! তারা কি শুধু তাদের অর্থ হাচিল করার জন্য মানবাধিকার করে।

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা মানবাধিকার সংগঠনের বিষয়ে মহানগরের সভাপতি ও ডেপুটি গর্ভনর আবু মাসুম ফয়সাল জানান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মানবতাসেবায় কাজ করে। আমরা সব সময় অসহায় মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছি আর আমরা করে যাবো।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের আয়ের টাকা দিয়ে মানবাধিকার করি। সালিশ বৈঠক করে মানুষকে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে টাকা ইনকাম করে আমাদের সংগঠন চলে না। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা সবাই চাকুরীজীবি তারা তাদের বেতনের টাকা দিয়ে অসহায় মানুষের সহযোগীতা করে।

তাই বরিশালে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পাশে সব সময় বরিশালের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার এবং সরকারি বড় কর্মকর্তারা পাশে থেকেছেন। আমাদের সংগঠনের কর্মীরা সুনামের সহিত কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, গত বছরে সংগঠনে ভাল কাজ করায় কাউনিয়া থানা শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে সিনিয়র গর্ভনর মাহামুদুল হক খান মামুন নগত ১০ হাজার টাকা পুরুষকৃত করেন।

সে আরো বলেন, বরিশালে প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকারের নাম ভাঙ্গীয়ে কিছু ভূঁইফোড় মানবাধিকার সংগঠন সাইনবোর্ড লাগিয়ে অসহায় মানুষের সহযোগীতা করার কথা বলে দিন দিন অপকর্ম করে যাচ্ছে। ওই সকল ভূঁইফোড় সংগঠনের কারনে আমাদের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বদনাম হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, যে মানবাধিকার সংগঠন মানুষের উপকারে আসবেনা মানুষের বিপদে পাশে থাকবে না ওই সকল সংগঠনগুলোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনিয় ব্যবস্থা নেয়া হউক।

মহানগরের সাধারনা সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার মিন্টু বলেন, আসলে জীবনে বহু দল করেছি এমনকি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কাজ করেছি কিন্তু বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এরা নিজেদের অর্থয়নে চলে। যাহা এমন আর কোনো সংগঠন আমার চৌখে পরেনি। তিনি বলেন, এই সংগঠনে যে সদস্য হয় সেই কিছু না কিছু সংগঠনে দিতে চেষ্টা করে। যাহা আমরা উপলব্ধি করেছি করোনা মহামারি সংকটময় সময়ে।

সে আরো বলেন, বরিশালে এই বিপদ মূর্হুতে শুরু থেকে অসহায়দের পাশে এই মানবাধিকার কমিশন সকল সদস্যর সহযোগীতায় আমরা বরিশালে প্রায় ১৭০০শ অসহায় মানুষের সহযোগীতা করেছি। তবে আমাদের কাজ অব্যাহিত থাকবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯